শোবিজ বাংলা প্রতিবেদক : পেশায় তিনি একজন শিক্ষক। বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনার পাশাপাশি একরকম শখের বসেই নারী উদ্যোক্তা হিসেবে ব্যবসায় এসেছেন। তিনি জান্নাত রুমু। সবসময়ই তার মনের মধ্যে ছিলো ব্যবসা বিষয়ক উচ্চতর পড়াশোনা করে যদি ব্যবসা না করতে পারি, তাহলে এক ধরনের অতৃপ্তি – অস্বস্তি থেকে যায়। আবার শিক্ষার্থীদের উদ্যোক্তা হওয়ার বুলি আওড়ানোটা এক ধরনের ফাঁকা আওয়াজ দেওয়ার মতো মনে হয় তার কাছে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৬ সালে বিউটি সেক্টরে উদ্যোক্তা হিসেবে তিনি কাজ শুরু করেন রেইনবো বিউটি পার্লার এর ব্যানারে। বিউটি পার্লার ব্যবসা তিনি সফলতার সাথেই করেছেন।
জান্নাত রুমু জানান, পোষা প্রাণী বিশেষ করে বিড়ালের প্রতি ভালোবাসা রয়েছে তার। এটা থেকেই পথ বিড়াল খাওয়ানো শুরু করেন নিজের বাসায়। তিনি বলেন, প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ টি বিড়াল খায় আমার বাসায়। এগুলোর মধ্যে একটি ছেলে বিড়াল বিশেষভাবে আমার নজর কাড়ে। বিড়ালটি সম্ভবত কোন বাড়িতে পালিত ছিলো। কিন্তু কোন কারনে পরিত্যক্ত হয়। তার আচরণ সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের, ভীষণ আদুরে এবং মায়াবী চাহনি। তাইতো আমি তার নাম রাখি লালা ।বিড়ালটি লাল ও সাদা রঙের সংমিশ্রণে।
অনলাইন ব্যবসায় আসা প্রসঙ্গে জান্নাত রুমু বলেন, আমার হঠাৎ একদিন মনে হলো অনলাইন প্লাটফর্মে কিছু একটা করা দরকার। সেই ভাবনা থেকে আমার পেজের একটি নাম দরকার ছিলো। অনেক ভেবে যখন কোন নাম ঠিক করতে পারছিলাম না, তখন হুট করেই মাথায় আসলো লালা নামটি দিলে কেমন হয়! ভিন্ন কিছু না ভেবেই পেজের নাম দিলাম আমার সেই প্রিয় বিড়ালের নামে, লালা এক্সক্লুসিভ কালেকশন।
তিনি আরও বলেন, আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি এই ব্যবসা লাভজনক হলে, ব্যবসার আরও বিস্তার লাভ করলে মুনাফার সুনির্দিষ্ট একটি অংশ আমি বিড়ালদের জন্য ব্যয় করবো। আমার সব সময় মনে হয়, এই পৃথিবী আমাদের একার নয়, এই পৃথিবী প্রতিটি প্রাণীর অধিকার আছে সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার। আমার একার পক্ষে সবকিছু করা হয়তো সম্ভব নয়, আমি বিড়ালদের আশ্রয় ও খাবারের ব্যবস্থা যতটুকু সম্ভব আমার পক্ষে আমি করে যাবো। ভবিষ্যতে পথশিশুদের নিয়েও কাজ করতে চাই।
নিজের অনলাইন ব্যবসা সম্পর্কে জান্নাত রুমু বলেন, বর্তমানে স্কিন কেয়ার প্রোডাক্ট, মেয়েদের শাড়ি, থ্রি পিস এগুলো নিয়ে ব্যবসা করছি। ঈদের পর এটা বড় পরিসরে শুরু হবে ইনশাল্লাহ। তখন মেয়েদের সবকিছু পাওয়া যাবে অফলাইন এবং অনলাইনে। এর সাথে প্রতিষ্ঠা করা হবে লালা ব্রাইডাল স্টুডিও। আর লালা এক্সক্লুসিভ কালেকশনকে নিয়ে অনেক বড় পরিকল্পনা আছে। বর্তমানে আমরা ফেসবুক পেইজ এবং ওয়েবসাইটে কাজ করছি। ভবিষ্যতে লালা অ্যাপস তৈরি করে আমার অনলাইন ব্যবসার পরিধি আরও বাড়াতে চাই